এইমাত্র পাওয়া

‘চকরিয়ায় অপহরণ’ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

মার্চ ২২, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘চকরিয়ায় অপহরণের তিনঘন্টা পর জিম্মিদশা থেকে স্কুলশিক্ষার্থী উদ্ধার’ শিরোনামে গত ১৯ মার্চ মঙ্গলবার চকরিয়া নিউজ ডটকমসহ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের ছবিতে  প্রথমেই লক্ষ্য করা যায়, ১ম ছবিতে ছেলেটির গায়ে নীল সার্ট পরিহিত । এডিটিং করা ২য় ছবিতে
দেখা যায় গেঞ্জি বা টি সার্ট পরিহিত। সংবাদের প্রথমেই প্রমাণিত হয় সংবাদটি ভিত্তিহীন একটি সংবাদ।
সংবাদে উল্লেখ্য করে, চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নে অপহণের
তিনঘন্টা পর জনগণের সহায়তায় জিম্মিদশা থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুলশিক্ষার্থী আবু হানিফকে  উদ্ধার
করেছে।  বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ওই শিক্ষার্থী গত সোমবার সকালে পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাটা বড় মসজিদ এলাকায় অপহরণের শিকার হন। অপহৃত হানিফ ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ডের দরবেশকাটা এলাকার মোহাম্মদ এহছানের ছেলে। তাকে উদ্ধার করা হয় একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড থেকে। হানিফ স্থানীয় দরবেশকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অধ্যায়নরত।
আরো উল্লেখ্য করে বলেন, হানিফ বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এখই এলাকার মৃত আবু তালেকের ছেলে মৌলভী রাসেল, সাইফুল হক, তার ছেলে তৌহিদ, শহীদ ও কালামসহ কয়েকজন মিলে আমার ছেলে হানিফকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এসময় তাকে বেধম মারধর করে।

প্রকৃত ঘটনা ও ব্যাখ্যা-

আমি আবুল কালাম পিতা এলাহাদাদ সাং- দরবেশকাটা, মসজিদ পাড়া ১ নং ওয়ার্ড, ইউনিয়ন- পশ্চিম বড়ভেওলা, উপজেলা -চকরিয়া, জেলা -কক্সবাজার।

উপরোক্ত ঠিকানায় আমার শশুরের
পুরাতন বাড়িতে আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে শান্তি পূর্ণভাবে
বসবাস করে আসছি। আমার শশুর শাশুড়িসহ তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে দরবেশকাটা ১ নং ওয়ার্ডস্থ নতুন বাড়িতে বসবাস করেন থাকেন।  গত ২১ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখ  হঠাৎ আমার কন্যা সন্তানটি মৃত্যু বরণ করে। সন্তানের
মৃত্যুতে তার মা অর্থাৎ আমার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মৃত সন্তানের চিন্তায় দিনদিন অসুস্থ হয়ে পড়ছে আমার স্ত্রী। সিদ্ধান্ত নিলাম স্ত্রীর মানসিক শান্তির জন্য কিছুদিনের জন্যে শশুর বাড়িতে যাবো। ১ নং ওয়ার্ডস্থ আমার শশুরের নতুন বাড়িতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে চলে যায়।
এই সুযোগে গত ১০-০৩-১০১৯ইং  তারিখ গভির রাত্রে আমার ঘরের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে প্রবেশ করে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের(কানের-নাকের দুল, আংটি), ১ টি বিদেশী ল্যাপটপ ও নগদ টাকা চুরি করিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই, আমার ঘরের বারান্দার দরজার তালা ভাঙা। এবং ঘরের ভেতরে ডুকলে দেখতে পাই সুকেইচের তালা ভাঙা। উপরোল্লিখিত মালামাল, টাকা কিছুই নাই। সব কিছু চুরি করে নিয়ে যায়। আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে খোঁজাখোজি করিয়ে জানতে পারি, একই এলাকার নিবাসী মোহাম্মদ এহসানের ছেলে আবু হানিফ গতির রাত্রে আমার ঘরে প্রবেশ করে উপরোল্লিখিত মালামাল, টাকা, স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়।
একই এলাকার সোনা মিয়ার ছেলে নুর কাদেরও চোর হানিফের সাথে ছিল এমনটাই জানান এলাকার অনেকেই।
চোর হানিফের সঙ্গী নুর কাদেরকে এবিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে আমিও হানিফের সাথে রাতে চোরি করার সময় ছিলাম এমনটাই স্বীকার করে নুর কাদের। স্বর্ণালংকার ও মালামাল কোথায় রেখেছে জানতে চাইলে নুর কাদের জানাই, একই এলাকার আবু সদর ও হোসাইনকে কিছু মালামাল বিক্রি করে দিছি। বাকি মালামাল মোহাম্মদ এহসানের ছেলে আবু হানিফের হাতে রয়েছে।

হানিফের বাড়ি থেকে হানিফকে এ বিষয়ে জানতে ১১ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১ ঘটিকার দিকে আমি আমার শশুরের নতুন বাড়িতে  নিয়ে আসি। চোরি হওয়া মালামাল কোথায় লুকিয়ে রেখেছে জানতে চাই হানিফের কাছ থেকে। কোনো প্রকার প্রহার বা মাইরপিট করিনি হানিফকে। ঠিক মিনিট পাঁচেকের মধ্যে হানিফের বাবা ও একজন পুলিশ এসে হানিফকে নিয়ে যায়।
পরে জানতে পারি আমরা নাকি হানিফকে অপহরণ করেছি। সমাজের কিছু দুষ্কৃতি মানুষের ইন্ধনে মোহাম্মদ এহসান ও তার ছেলে আবু হানিফ অপহরণের মিথ্যে অপবাদ ছড়াচ্ছে। এই নিয়ে আমাদের সম্মান ক্ষুন্ন করছে মোহাম্মদ এহসান ও তার ছেলে আবু হানিফ।
সমাজে আমি ও আমার শশুর পরিবারের একটি সম্মান ও মর্যাদা রয়েছে। সম্মান ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে এহসান অপহরণের অপবাদ ছড়াচ্ছে সমাজে।
আরো উল্লেখ্য যে, আমাদের অনুপস্থিতিতে  বেশ কয়েকবার আমার বাড়িতে ডুকে চোরি করে অনেক মালামাল নিয়ে যায় চোর আবু হানিফ ও তার বাবা মোহাম্মদ এহসান। গ্যাস সিলিন্ডার-২ টি, সোয়াবিন ৫ লিটার, ২০ কেজি চা ওল, কসমিটিক্স, মোবাইল, ঘড়িসহ অনেক কিছু চোরি করে নিয়ে যায়।
আমি আবুল কালাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অত্র ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত  বিচারের দাবি করি। ইউপি সদস্য জনাব জাকের আহমদসহ বুট্ট ও আরাফাতের এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে  হানিফ চুরিকৃত সকল মালামাল ফেরত দিয়ে দিবে বলে জনসমক্ষে সম্মতি প্রকাশ করে।
আইন অমান্যকারী এলাকার একনামে চোর পরিচিত এহসান ও তার ছেলে হানিফ একগোয়ামী করে কোনো মালামাল ফেরত দেইনি।

উল্লেখ্য যে,  মোহাম্মদ এহসানের ছেলে আবু হানিফ গত আড়াই মাস ধরে স্কুলে উপস্থিত নাই এমনটাই জানালেন দরবেশকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি আরো বলেন,  জানুয়ারিতে ভর্তি হওয়ার পর মাত্র একবার স্কুলে আসছিল হানিফ। সে অনিয়মিত একজন ছাত্র। এলাকার লোকমুখে এমনটাই শুনেছি হানিফ নাকি এখন মানুষের বাড়ি ঘরে চুরিচামারি করে।

পাশের বাড়ির মুকুল অভিযোগ করে বলেন,  এহসান ও তার ছেলে হানিফ এলাকার নামকরা চোর। দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলে একসাথে চোরি করে আসছে। তারা এলাকায় একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাড়িতে  ডুকে মালামাল চোরি করে। থানায়  তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। এহসানের নামে মালমাও রয়েছে কয়েকটি।
নাম না বলা অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন,  আমার পাশের বাড়িটি এহসানের বাড়ি। প্রতিদিন তার বাড়ি থেকে গাঁজা ও ইয়াবার খারাপ গন্ধ ছাড়াই এলাকায়। তার বাড়িতে ইয়াবার আসর বসে প্রতিদিন।
সে ইয়াবা কারবারীর সাথে জড়িত। এসব অসামাজিক মানুষদের সমাজে থেকে বিতাড়িত করা সবার জন্য ফরজ হয়ে পড়েছে।

এই মরণ নেশা আমাদের সমাজে ছড়ানোর কারণে আজ হুমকির মুখে পড়ছে উঠতি বয়সি যুবকরা।
পরিত্রাণ চাই এসব অপকর্মকারী মানুষদের কাছ থেকে এমনটাই মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

প্রতিবাদকারী–
আবুল কালাম পিতা এলাহাবাদ সাং- দরবেশকাটা, মসজিদ পাড়া ১ নং ওয়ার্ড, ইউনিয়ন- পশ্চিম বড়ভেওলা, উপজেলা -চকরিয়া, জেলা -কক্সবাজার।

আর্কাইভ

এপ্রিল ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« মার্চ    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

শিরোনাম :