এইমাত্র পাওয়া

নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশে এতো উন্নয়ন হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

জুলাই ১৪, ২০১৮

নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের এতো উন্নয়ন হয়েছে বা হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি আর জনগনের সম্পদ ও এতিমের টাকা লুটপাট করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

শনিবার বিকেলে পাবনা পুলিশ লাইন মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরিফ ডিলুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বলেই রুপপুরের মতো বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তাই উন্নয়নের জন্যে নৌকায় ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পাবনা-৫ এর সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্দ নাসিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পাবনা-১ আসনের সংসদ সদ্য শামসুল হক টুকু, আওয়ামীলীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধূরী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, নৌকায় ভোট দেয়ায় আপনারা এই উপহার পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে চিরদিনই দেয় এবং দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লুটপাট আর নিজেদের ভাগ্য গড়তে ক্ষমতায় আসে নাই। আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ক্ষমতায় এসেছে।

আওয়ামী লীগ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত দেশ গড়তে চায়। সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। এই অভিযানে শিক্ষক অভিভাবকদের নিজ নিজ সন্তানদের খোজ খবর রাখতে বলেন এবং মাদক ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রনে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আপনাদের ছেলেমেয়ে যারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, এই ছেলেমেয়েরা কার সাথে মেশে, কোথায় যায়, কিভাবে চলে। মাদকাসক্তিতে তারা আসক্ত হলো কি না, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো কি না, তারা বিপথে চলে গেল কি না, অভিভাবক-শিক্ষকরা অবশ্যই আপনাদের তা দেখতে হবে।

জনসভায় উপস্থিত লোকজনের নিকট নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা নিয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা যদি নৌকায় ভোট দেন, আর আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে, তাহলে প্রত্যেকটি গ্রাম নগরের ন্যায় গড়ে তোলা হবে। শহর বা নগরবাসী যে সকল সুযোগ সুবিধা পায় সেটা নিশ্চিত করবেন বলেও তিনি জানান।

জনসভায় যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রী ৩১ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৮টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে ঈশ্বরদী থেকে মাঝগ্রাম হয়ে পাবনা পর্যন্ত রেল চলাচল, পাবনা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস, ঈশ্বরদী থানা ভবন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী, সলিমপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর এবং চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ফরিদপুর উপজেলায় বড়াল নদীর ওপর সেতুসহ ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

এছাড়া তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রে সিগন্যালিংসহ রেললাইন নির্মাণ, জেলা সদরে এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল, পাবনা মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, সুজানগর উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আটঘরিয়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, চাটমোহর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন, বেড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন, সুজানগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন, জেলা রেজিস্ট্রার অফিস ভবন, পুলিশ লাইন্স মহিলা পুলিশ ব্যারাক ভবনসহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর আগে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ফার্স্ট কংক্রিট পোরিং (এফসিপি) কাজের উদ্বোধন করেন। পরে রুপপুর পারমাণবিক বিদুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ঢালাই কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো, কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। উন্নয়ন মূলক কাজ করতে গেলেই সমালোচনা হয়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে নিয়ে অযথা ভয়-ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে। এখানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আলাদা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে চলেছি। কারও কাছে হাত পেতে নয়, মর্যাদা সমুন্নত রেখে।

তিনি এসময় আরো বলেন, জাতির পিতার রেখে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতি আমরা অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতাযুদ্ধে সহযোগিতাকারী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারতসহ সব দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। রাশিয়া ও ভারত সুখে-দুঃখে সব সময় আমাদের পাশে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎ প্রকল্পে উৎপাদন শুরু হলে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে অন্তভূক্ত হবে। এতে দেশের বিদুৎ ঘাটতির পরিমাণ কমে যাবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই আমরা পরমাণু ক্লাবের সদস্য হয়েছি, আমরা মহাকাশে অন্তর্ভূক্ত হয়েছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ইউরি বরিসভ।

বিডি প্রতিদিন

আর্কাইভ

নভেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« অক্টো    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

শিরোনাম :