এইমাত্র পাওয়া

ঘনিয়ে আসছে ক’পৌ নির্বাচন, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে বিশ্বাসী নয় ভোটাররা!

জুলাই ২১, ২০১৮

প্রতিশ্রুতি নয়, সেবা চাই ভোটাররা।
ঘনিয়ে আসছে ক’পৌ নির্বাচন, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে বিশ্বাসী নয় ভোটাররা!
হেলাল উদ্দিন সাগরঃ
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের হরেক রকম প্রতিশ্রুতির সুরও তত প্রসারিত হচ্ছে। মাইকিংয়ে মাইকিংয়ে পর্যটন শহরের আনাচেকানাচে এই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি জড়াচ্ছে প্রার্থীর সমর্থকরা। বর্তমানে নানান প্রতিশ্রুতির বক্তৃতা, গান ও সংলাপের অডিওটেপে মুখরিত পুরা নগরী। কিন্তু প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে বিশ্বাসী নয় ভোটাররা। ‘প্রতিশ্রুত নয়, সেবা চাই’ এমন জানান কক্সবাজার পৌরসভার সাধারণ ভোটাররা।
আগামী ২৫ জুলাই কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে জয়ী হতে প্রার্থীদের আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি এসব নতুন কিছু নয়। এমনটা ভোট এলেই দেখা যায়। ভোটে জয়ী হয়ে প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়, সে অভিজ্ঞতাও ভোটাদের রয়েছে। এসব পুরনো বুলেটিন। তবুও প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেয়। মধুর মধুর প্রতিশ্রুতিতে এখন ভোটারদের মন গলাতে পারে না। প্রার্থীদের আশ্বাসে, ভোটারদের বিশ্বান নেই!

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিযোগীতা দিয়ে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। প্রতিশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি কেউই পিছিয়ে নেই।

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমানকে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় বলতে শুনা যায়, তিনি নির্বাচিত হলে কক্সবাজারকে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত করে মানুষকে শান্তিতে বসবাস করার সব ব্যবস্থা নিবে। যেহেতু তিনি সরকার দলীয় প্রার্থী, নির্বাচিত হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে। পর্যায়ক্রমে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে ইত্যাদি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলামকে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় বলতে শুনা যায়, বিএনপি সরকার কক্সবাজার পৌরসভায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। বর্তমান সরকারের অত্যাচার – নির্যাতনের জবাব দিতে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। বর্তমান মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার কামালকে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় বলতে শুনা যায়, আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত মেয়র। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও আমাকে গদিতে বসতে দেওয়া হয়নি। তারপরও যতটুকু পেরেছি এই শহর তথা মানুষের জন্য কাজ করে গেছি। অনেক অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম শেষ করতে পারিনি আবারও জয়ী হলে বাকি কাজগুলো শেষ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী রুহুল আমিন শিকদারকে নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণায় বলতে শুনা যায়, কক্সবাজার তথা পুরো বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতীয় পার্টির অবদান চোখে পড়ার মত। আমি নির্বাচিত হলে পল্লী বন্ধু সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখব, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করে একটি আধুনিক পৌরসভা গড়াই আমার অঙ্গীকার। পৌর ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখবো। সবাইকে নিয়ে পরিকল্পনা করে অবকাঠামোসহ সব উন্নয়নমূলক কাজ করবো। আমি নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত এবং উন্নয়নে সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাবো। এরকম হরেক রকমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনরাত অবদি মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

স্থানীয় ভোটাররা বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি পুরনো। ভোট এলে এসব আমাদের শুনতে হয়। সবাই অভ্যস্ত। এখন আর প্রার্থীদের মধুর কথায় কেউ ভোট দেয় না। সবাইকে চেনা হয়ে গেছে। তাদের আশ্বাসে-বিশ্বাস নেই। নিজাম উদ্দিন নামের একজন ভোটার বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার শহরের রাস্তাঘাটের যে করুণ অবস্থা যা যুগ যুগ ধরে দেখে আসতেছি। নির্বাচন আসে আর যায়, নির্বাচিত প্রার্থীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরলেও ঘুরেনা সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষের চাকা। তাই আর প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি শুনে মন গলেনা। যারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে নির্বাচন করে তাদের এড়িয়ে চলতে সাধারণ ভোটারদের প্রতি আহবান জানান নিজাম উদ্দিন।
সরকারি সব অফিস থেকে দুর্নীতি নির্মূল, সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত সেবা প্রদানে নির্বাচিত প্রার্থীদের মনোমানষিকতা তৈরি করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন কক্সবাজার জেলার সচেতন মহল। তাহলেই পরে ভবিষ্যতে ভোটারদের কাছে আসার পথ সুগম হবে বলে জানান তারা।

আর্কাইভ

জানুয়ারি ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« ডিসে    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

শিরোনাম :