এইমাত্র পাওয়া

চরম ঝুঁকিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র প্রবেশদ্বার জেটি!

জুলাই ২৯, ২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের একমাত্র জেটি বর্তমানে মারাতœক ঝুঁিকতে বলে খবর পাওয়া গেছে। জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা শেষে আগামী পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে উঠবে। পাশাপাশি দ্বীপে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণ হ্রাস পাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আলহাজ্ব মোঃ হাবিবুর রহমান খাঁন ২০ জুলাই রাতে বলেন ‘সেন্টমার্টিনের একমাত্র জেটি নির্মিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিশেষ করে শীত মওসুমে দ্বীপে বেড়াতে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। তাঁদের ওঠানামার সুবিধার্থে নির্মিত হয়েছিল এই জেটি। নির্মানের ৭ বছরের মাথায় জাহাজের ধাক্কায় ও ঢেউয়ের আঘাতে পল্টুনে ভাঙন দেখা দেয়। প্রথমে পল্টুনের ৩ পাশে ভাঙ্গণ ধরলেও এখন আর জাহাজ ভেড়ানো যায়না। পল্টুনটি বর্তমানে সম্পুর্ণ বিকল। মেরামতের জন্য টেন্ডারের খবর শুনা গেলেও তা ৩ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। এখন জেটির কোন সাইড দিয়েও পর্যটক ওঠানামা করা নিরাপদ নয়। পর্যটন মৌসুমে এক সাথে কয়েকটি জাহাজ ভিড়লে কি পরিমান কস্ট হয় তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বলতে পারবেন। এমনকি অনেকে এ দ্বীপে জীবনেও আসবেনা বলে শপথ করতে বাধ্য হন। আর যাঁরা দিনে এসে দিনে চলে যান তাঁরা সময় পান মাত্র ২ঘন্টা ৩০মিনিট। সেখানে আবার তাঁদের জাহাজ থেকে নামতেই চলে যায় প্রায় এক ঘন্টা। আর বাকি থাকে এক ঘন্টা ৩০ মিনিট। সে সময়র মধ্যে কি ফ্রেস হবে কি দুপুরের খাবার খাবে নাকি স্বপ্নের দ্বীপকে এক নজর দেখার জন্য একটু ঘুরবে তার হিসাব মিলাতে পারেননা জেটি সমস্যার কারণে। প্রচুর টাকা খরচ করে এসে যদি একটু মনের মত করে দেখতে না পারে তাহলে কি রকম কস্ট লাগে তাঁরাই জানেন যাঁরা টাকা খরচ করে আসেন। জেটিই এখন দ্বীপে পর্যটক অন্তরায়ের মূল কারন। জেটি থেকে ওঠা আর নামতে প্রায় সময় ছোট ছোট বাচ্চাদের এবং মা’দের কান্নার রোল পড়ে যায়। মাঝে মধ্যে হারিয়ে যায় বাচ্চারা। জেটি থেকে জাহাজে ওঠার সময় মা থাকেন পল্টুনে আর সন্তান থাকে জাহাজে। আবার বাপ থেকে যান পল্টুনে। তখন শুনা যাইনা মোবাইলের কথা। এসময় সৃস্টি হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। দ্বীপে বেড়াতে এসে যদি সীমাহীন কস্ট নিয়ে যেতে হয়, তাহলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকবে। অনেকে সে কস্টের কথা বাসায় গিয়ে সাংবাদিক ডেকে এনে পত্রিকায় লিখে গোটা দেশবাসীকে জানাতে বাধ্য হন। যা শুনে অনেকে কস্টের কথা ভেবে দ্বীপে আর আসতে চাননা। তারা সেনটমাটিনস আসার পরিকলপনা থাকলেও তা বাতিল করতে বাধ্য হন। আগে তো ভাঙ্গন ছিল জেটিতে ও পল্টুনের উপরের অংশে। এবার নতুন করে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে মূল জেটির নীচ থেকে’।

সেন্টমার্টিনদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন ‘সেন্টমার্টিন জেটির যাবতীয় তদারককারী কতৃপক্ষ হচ্ছে কক্সবাজার জেলা পরিষদ। জেটিতে সমস্যা দেখা দেয়ার সাথে সাথেই বিষয়টি কক্সবাজার জেলা পরিষদকে এবং পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। তাছাড়া টেকনাফ উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হয়েছে। দ্বীপে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের স্বার্থ বিবেচনা করে জরুরী ভিত্তিতে দক্ষ প্রকৌশলীর সরেজমিন পরিদর্শন পুর্বক মৌসুম শুরুর আগেই মেরামত করার জোর দাবি জানাচ্ছি’। ##
ছবি- আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান খান মেম্বারের সৌজন্যে।

আর্কাইভ

সেপ্টেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« আগ    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০

শিরোনাম :