এইমাত্র পাওয়া

ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের মত প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট শক্তির বিপক্ষে খেলা সহজ হবে না মোটেও। শিরোপা জয়ের এই মহারণে তাই একাদশ নির্বাচনটাও ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা জায়গায় সঠিক প্লেয়ার রাখাটাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

শুরুতেই আসে ওপেনিং প্রসঙ্গ। এমনিতেই টাইগারদের বড় দুশ্চিন্তার নাম ব্যাটিং। এখনও পর্যন্ত নিজেদের সেরা ব্যাটিংটা তারা এবারের এশিয়া কাপে করতে পারেনি। ধারাবাহিকভাবে টপ অর্ডার ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে ওপেনিংয়ের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। একদিনও ওপেনাররা ভালো শুরু এনে দিতে পারেননি। সেদিক থেকে ভারতের বিপক্ষে কারা ওপেন করবেন, তা বলা কঠিন।

গত ম্যাচে সৌম্য সরকার রানের খাতেই খুলতে পারেননি। সম্ভাব্য অপশন হতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু শান্ত যেহেতু আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন সেই অনুপাতে আরেকটি ম্যাচ সৌম্যকেই খেলাতে পারে বাংলাদেশ। আর বোলিং ও ফিল্ডিং এর কারণেও সৌম্যই এগিয়ে থাকবেন। মুশফিক চোট নিয়েই খেলছেন, সুতরাং তার বদলে কিপিং করার জন্য হলেও লিটন খেলবেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত। সেদিক থেকে সৌম্য-লিটনই ওপেন করবেন, নাকি ইমরুলকে মিডর অর্ডার থেকে টেনে আনা হবে এদের কাউকে নিচে নামিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে আমাদের।

তিন নম্বরে মোহাম্মাদ মিথুনের খেলার সম্ভাবনা বেশি। গত ম্যাচে ব্যর্থতার জন্য মুমিনুলকে ফাইনালে সুযোগ না দেওয়ারই কথা। আর চার নম্বরে মুশফিকই নামবেন অন্যদিনের মত। এরপর যথাক্রমে ইমরুল, মাহমুদুল্লাহ, মিরাজ ও মাশরাফি আসবেন ব্যাটিং অর্ডার অনুযায়ী। তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয় আটকাতে হবে। উইকেট না হারিয়ে বড় জুটি গড়াই হবে প্রাথমিক লক্ষ্য। শেষ দিকে ভালো ফিনিশিংও নিশ্চিত করতে হবে। পাকিস্তান ম্যাচের মত স্লগ ওভারে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়া চলবেন।

বোলিংয়ে মাশরাফিকে নতুন বলে সহায়তা করবেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেখর ধাওয়ানের বিপক্ষে অফস্পিনার হিসেবে মিরাজকে ব্যবহার করা হবে, তা এক রকম নিশ্চিত। গত ম্যাচের মত ফাইনালে চার বোলার নিয়ে খেলতে চাইবেনা টাইগাররা। কারণ, ভারতের ব্যাটিং ডেপথ অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে রুবেল হোসেনের সাথে নাজমুল ইসলাম অপুও যোগ দিতে পারেন স্কোয়াডে। ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে অপুর স্পিন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে পার্ট টাইম বোলার হিসেবে মাহমুদুল্লাহ ও সৌম্য সরকারকে ব্যবহার করবেন মাশরাফি। পাঁচ বোলার খেললে বোলিংটা বেশ শক্তিশালী হবে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সাকিবের অনুপস্থিতিতে চার বোলার নিয়ে খেলাটা যে ঝুঁকিপূর্ণ তা গত ম্যাচ থেকেই বোঝা গেছে। পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন অতোটা স্ট্রং না হওয়ায়, পার্ট টাইম বোলাররা কাজ চালিয়ে নিয়েছেন। ফাইনালে সে সুযোগ নেই।

তবে সবমিলিয়ে জমজমাট ম্যাচ হবে, এশিয়া কাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালে। এজন্য স্নায়ুচাপকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী। একাধিকবার বিশ্বকাপজয়ী ভারতের ক্রিকেট ইতিহাস এমনিতেই অনেক সমৃদ্ধ। বড় ম্যাচ চাপ নেয়ার সক্ষমতাও তাদের বেশি। সেদিক থেকে মানসিকভাবে তারা আত্নবিশ্বাসী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এখন টাইগাররা মানসিকভাবে কতোটা চাপ নিতে পারে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। সেখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। তারপরও আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, ভারত বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। বিরাট কোহলির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও এই টিমকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাটিংয়ে তারা যেমন শক্তিশালী, তেমনি বৈচিত্র্যময় তাদের বোলিং আক্রমণ। আর ফিল্ডিংয়ে এশিয়ার দলগুলোর মাঝে ভারতই যে সেরা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই সবদিক মিলিয়েই ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ নিয়েই মাঠেই নামতে চাইবে টাইগাররা। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক ফাইনালের সম্ভাব্য একাদশ।

ফাইনালে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ:
১)লিটন দাস
২)সৌম্য সরকার/ইমরুল
৩)মিথুন আলি
৪)মুশফিকুর রহিম
৫)ইমরুল কায়েস/সৌম্য সরকার
৬)মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
৭)মেহেদি হোসেন মিরাজ
৮) মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক)
৯)মোস্তাফিজুর রহমান
১০)রুবেল হোসেন
১১)নাজমুল ইসলাম অপু

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

শিরোনাম :