এইমাত্র পাওয়া

রোহিঙ্গারা বিস্কুট পাই, গ্যাস্ট্রিকে ভোগে আমার সন্তানেরা- এমপি বদি

অক্টোবর ৪, ২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
সম্প্রতি এক বিদেশিকে মারধরের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আ.লীগের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি। এবার সে ঘটনার ব্যাখা দিতে গিয়ে ফের আলোচনার ঝড় তুলেছেন তিনি।
বুধবার কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালংয়ে বিশেষ ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তার দেয়া বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুর রহমান বদি বলেন, ‘আমার এলাকার ছেলেমেয়েরা গ্যাস্ট্রিকে ভুগছে। খেতে না পারলে তো গ্যাস্ট্রিক হবেই। অথচ এখানে রোহিঙ্গাদের বিস্কুট দেয়া হচ্ছে। এই নিয়েই বিতণ্ডার জেরে এক বিদেশিকে থাপ্পড় মেরেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশিদের বললাম— আমার এলাকার ছেলেমেয়েরা না খেয়ে গ্যাস্ট্রিকে ভুগছে, তাদের বিস্কুট দেন। তখন তারা বললেন, না, স্যার। এসব বিস্কুট রোহিঙ্গাদের জন্য। স্থানীয়দের দেয়া যাবে না। তখন আমি বললাম, এলাকার মানুষ ভোট দিয়ে আমাকে এমপি বানিয়েছে। তারা কী দোষ করল যে, তাদের ছেলেমেয়েরা না খেয়ে গ্যাস্ট্রিকে ভুগবে? তাদের কেন আপনারা বিস্কুট দিবেন না? তখনই এক বিদেশির গালে এমন থাপ্পড় মারলাম, দেশের সব পত্রপত্রিকায় খবর হয়ে গেল। তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিচার দিলেন।’
এমপি বদি বলেন, ‘আমি ওই বিদেশিকে বললাম, ওই লাল চামড়াওয়ালা, তুই আসছস বিদেশ থেকে বার্মাইয়াদের (রোহিঙ্গা) সাহায্য করার জন্য। তুই কি জানস, বার্মাইয়া মেয়েরা বছর বছর একটা করে বাচ্চা জন্ম দেয়। এখানে পাঁচ বছর থাকলে পাঁচটা, ছয় বছরে ছয়টা, সাত বছরে সাতটা হবে? তো বছর বছর বাচ্চা দিলে বার্মাইয়া মেয়েদের শরীরে তো পুষ্টি থাকবে না। এদের বিস্কুট দিয়ে কী লাভ? আমি বললাম, তোমরা বার্মাইয়াদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াচ্ছো। তারাও বসে বসে খাচ্ছে আর বছর বছর বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে। এসব বলে যখন তাকে (বিদেশিকে) থাপ্পড় দিলাম, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠালেন, কেন তুমি বিদেশিকে মেরেছ?’
বদি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বললাম— তাদের সঙ্গে তো আমার কোনো শত্রুতা নেই। আমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সোনার মানুষদের বাঁচানোর জন্য কাজ করছি। আপনি চিন্তা করেন, আপনার নাতি যে স্কুলে পড়ে, তার পাশের স্কুলের বাচ্চারা বিস্কুট পেল আর আপনার নাতির স্কুলের কেউ পেল না, তাদের গ্যাস্ট্রিক হলো। আপনার নাতি যদি এসে বলে, নানু ভাই, ওরা বিস্কুট পেল, আমরা কেন পেলাম না? তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, অবশ্যই, সে তো এ কথাই আমাকে বলবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার ছেলেমেয়েরা স্কুলে গিয়েও বিস্কুট পায় না। অথচ রোহিঙ্গাদের ছেলেমেয়েরা গাল ফুলাইয়া ফুলাইয়া বিস্কুট খায়, এগুলো কেমন কথা? এ বিস্কুট কী রামু, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজারের কোথাও দেয়া হয়নি, শুধু উখিয়া-টেকনাফে দেয়া হয়েছে? আসলে এসব বিস্কুট প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন আমার এলাকার মানুষের জন্য। খেয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা।’
ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের পাহাড়ের ভেতর ঘর করে বসবাস করছে। সব গাছ তারা কেটে খেয়েছে। শিকড় পর্যন্তও হাওয়া করে দিয়েছে। গরু-ছাগলের জন্য গাছের নিচে যেসব ঘাস ছিল, সব শেষ করে রোহিঙ্গারা নীরবে এবং আরামে বসবাস করছে। তাদের কোনো কাজকাম নাই, কোনো চিন্তাও নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, আমাদের নিঃশ্বাস ফুরিয়ে গেছে, ঠিকমতো অক্সিজেন পাই না। প্রধানমন্ত্রী বললেন, বদি তুমি এটা কী বল? আমি বললাম, তেলও তারা খায়, চালও। মরিচও তারা খায়, যা সাহায্য আসে সবই তারা খায়। তারা সংখ্যায় বেশি, অক্সিজেনও বেশি নিচ্ছে। আমরা ৫ লাখের মতো আছি, আমাদের অক্সিজেনও ওরা দখল করেছে। আমাদের শরীরে কী আর অক্সিজেন থাকে?’
বদি বলেন, ‘তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, তুমি তো ঠিক কথাই বলছ। এখন কী করতে হবে? আমি বললাম, রোহিঙ্গারা যেভাবে বসে বসে খাচ্ছে, আমার এলাকার গরিব মানুষেরাও যাতে সেই সুযোগ পাই, আপনি সেই ব্যবস্থা করবেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী উখিয়া-টেকনাফের ৩০ হাজার গরিবের জন্য চাল বরাদ্দ দিলেন, যা আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উখিয়ার ইউএনও নিকারুজ্জামান চৌধুরী, জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী প্রমুখ।

আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৮
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

শিরোনাম :